বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ফি নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন হবে

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধন হবে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

সরকারি দলের এম আবদুল লতিফের এ সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আইনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের আর্থসামাজিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ফি কাঠামো প্রস্তুত করার কথা বলা আছে। কিন্তু তারা যার যার মতো করে বিভিন্ন খাতে অর্থ আদায় করছে, যা সবার জন্য উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণের পথে অন্যতম অন্তরায়। বিষয়টি আমরা অনুভব করলেও বিদ্যমান আইনে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিকার নিশ্চিত করার সুযোগ নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থ আদায়সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের একটি সমীক্ষা হওয়া দরকার। গুরুত্ব বিবেচনা করে আমরা এ বিষয়ে মতবিনিময়ও করেছি। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০-এর কতিপয় ধারা সংশোধনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি কর্তৃক একটি উপকমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। এ পর্যায়ে আলোচ্য বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।’

প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক বহন করা শিক্ষার্থীদের জন্য সহনীয় বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রাক্‌-প্রাথমিক স্তরের দুটি বইয়ের ওজন ৫১২ গ্রাম, প্রথম শ্রেণির তিনটি বইয়ের ওজন ৫২৫ গ্রাম, দ্বিতীয় শ্রেণির তিনটি বইয়ের ওজন ৫২৫ গ্রাম, তৃতীয় শ্রেণির ছয়টি বইয়ের ওজন ১ কেজি ১৫৬ গ্রাম, চতুর্থ শ্রেণির ছয়টি বইয়ের ওজন ১ কেজি ৩৫০ গ্রাম এবং পঞ্চম শ্রেণির ছয়টি বইয়ের ওজন ১ কেজি ৫০৪ গ্রাম।

পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমানোর প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তক বাড়ানো বা কমানোর বিষয়টি কারিকুলাম পরিবর্তন-পরিমার্জন সম্পর্কিত। কারিকুলাম সংশোধনের বিষয়টি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বই বাড়ান বা কমানোর বিষয়ে এনসিটিবি ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাঠ্যপুস্তকে ভুলভ্রান্তির জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তা ছাড়া এ জন্য ইতিমধ্যে এনসিটিবির কয়েকজনকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক, ভুলের জন্য দায়ী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে বেদে, হিজড়া ও হরিজন সম্প্রদায়ের পরিসংখ্যানগত কোনো জরিপ নেই। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭৫ হাজার ৭০২ জন বেদে, ১০ হাজার ১৩৯ জন হিজড়া এবং ২ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৬ জন হরিজন রয়েছে।

প্রশ্নোত্তরের আগে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *