চালু হচ্ছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

নতুন বছরে যাত্রা শুরু করবে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। আর এর কার্যক্রম পরিচালনায় প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪টি বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার মধ্যে ৪টি ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রথম বছর বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১২০ শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে।
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, ২০১২ সালে বরিশাল-ভোলা মহাসড়কের সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের দুর্গাপুরে ৮ একর জমির ওপর বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। গত পাঁচ বছরে সেখানে নির্মাণ করা হয় দুটি প্রশাসনিক ভবন, কম্পিউটার ভবন, নেভাল আর্কিটেক্ট, সিভিল ইঞ্জনিয়ারিং, প্রিন্সিপাল হোস্টেল, সাব-স্টেশন, টিচার্স কোয়ার্টার, সিনিয়র স্টাফ কোয়ার্টার, স্টাফ কোয়ৃার্টার-১ ও স্টাফ কোয়ার্টার-২, ছেলে ও মেয়েদের বিভিন্ন দুটি ছাত্র-ছাত্রী নিবাস, জুনিয়র টিচার্স কোয়ার্টার। তার মধ্যে প্রশাসনিক ভবন ও কম্পিউটার ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হলেও সেখানে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ কোয়ার্টার ভবনের কাজও শতভাগ সম্পন্ন। ছেলেদের ৪শ’ বেডের হোস্টেলের ও মেয়েদের একশ’ বেডের হোস্টেল ভবনের নির্মাণ কাজ ৭৫ ভাগ শেষ। তাছাড়া স্টাফ কোয়ার্টার-১ এর ৫০ ভাগ ও স্টাফ কোয়ার্টার-২ এর ৮০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বহুতল ভবনগুলো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকা। এর সঙ্গে চলছে বাউন্ডারি ওয়াল, পানি, বিদ্যুৎ এবং ক্যাম্পাসের সড়কের কাজ।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কার্যক্রম শুরুর জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে ৪টি ভবন চেয়েছেন। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না করলেও প্রশাসনিক ও কম্পিউটার ভবনের কাজ সম্পন্ন করে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়েছে। বাকি দুটি ভবনের কাজ চলতি মাসে শেষ হবে। এছাড়া অন্য ভবনগুলোর কাজও প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন। কলেজে ক্লাস শুরুর পূর্বে পুরো ক্যাম্পাস হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে পূর্বে ঢাকা কিংবা খুলনায় গিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে পড়ার সুযোগ ছিল না বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মেধাবী শিক্ষার্থীদের। অনেক অভিভাবক মেয়েদের দূরবর্তী স্থানে ছাড়তে চাইতেন না। আগামী বছর থেকে বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বল্প খরচে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পাবে। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মেয়েদেরও। তবে আমার দাবি থাকবে দেশের অন্যসব ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের মতো বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজেও একাধিক বিষয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ করে দেয়া।
ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সূত্র থেকে জানা গেছে, বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ৯০ জনবল নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন ৪৪ জন। পর্যায়ক্রমে নেভাল আর্কিটেক্ট, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সসহ একাধিক বিষয় চালু করা হবে। ভবিষ্যতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন চলার সম্ভাবনা রয়েছে।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক আলী আক্কাস জানান, বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিএসসি ইন ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি পাওয়া গেছে। চার বছর মেয়াদি কোর্স দুটিতে ৬০ জন করে ১২০ শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছর ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। এতে শুধু এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হতে পারবে। প্রতি বছর কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আগামী বছর থেকে কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে সব কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের চেষ্টা চলছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *