নোবিপ্রবির ১৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

এর মধ্যে রাজস্ব ব্যয় সংবলিত মূল অনুন্নয়ন বাজেট ৫৬ দশমিক ৬২ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ৭৭ কোটি টাকা, যা মোট ১৩৩ দশমিক ৫৬ কোটি টাকা।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-২ এর ভিডিও কনফারেন্স কক্ষে বাজেট পেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, ভৌত ও একাডেমিক সুবিধা বৃদ্ধিকরণ, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সাধারণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী এক বছরের ব্যয় হিসাব এ বাজেটে অন্তর্ভুক্ত।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেন, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটগুলোর পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, পরিচালক হিসাব, প্রক্টর, দফতরগুলোর পরিচালক ও প্রধানরা, শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এবং বিভিন্ন মিডিয়ার স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রস্তাবিত মূল রাজস্ব বাজেটে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭৭ লাখ টাকা। বেতন-ভাতা বাবদ বরাদ্দ ৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা যা মোট বাজটের প্রায় ৫৯ শতাংশ। সারবরাহ ও সেবা খাতে ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা যা বাজেটের ২৮ শতাংশ। এছাড়া মেরামত ও সংরক্ষণের ব্যয় হবে এক কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং মূলধন মঞ্জুরি খাতে ব্যয় হবে ৬ কোটি টাকা যা বাজেটের ১১ শতাংশ।

পাশাপাশি প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেটে ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত ও একাডেমিক সুবিধা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পে বৈজ্ঞানিক ও ল্যাব যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১২ কোটি টাকা, আবাসিক ভবন নির্মাণে ২৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি ভবন, অডিটোরিয়াম ভবন, মসজিদ, উপাসনালয় ও মেডিকেল সেন্টার নির্মাণে ২২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এবারও বাজেটের আয়ের উৎস বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুদান ও নিজস্ব আয়। এবার ইউজিসি দেবে ৪৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। আর বাকি ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা আসবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। অভ্যন্তরীণ আয়ের উৎস হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি, দালান ও ভূসম্পত্তি থেকে আয় ও বিবিধ প্রাপ্তি।

বাজেট অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান বলেন, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজস্ব বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। আমি যখন দায়িত্ব নিই ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বর্তমানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যা প্রায় তিনগুণে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৬ কোটি ৬২ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। সে হিসেবে এবারের ঘোষিত বাজেটের আকার অন্য সব অর্থবছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা, গবেষণার মত গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত বিগত ১০ বছরে বরাদ্দ পাওয়া যায় ১৩ লাখ টাকা। যার আকার এ অর্থবছরে বছরে দাঁড়ায় ৭৭ লাখ টাকায়। এটিও একটি মাইলফলক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *