সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যতিক্রমি শিক্ষাবৃত্তি

যাত্রাবাড়ির মধ্যবিত্ত চাকুরীজীবি মো. হাবিবুর রহমান। একমাত্র সন্তান শাকিলা লেখাপড়ায় বেশ মেধাবী। এসএসসি ও এইচএসসি দুই পরীক্ষায়  জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে সে। বাবার সব স্বপ্ন তাকে ঘিরেই। ইচ্ছা ছিল সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েকে পড়াবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ হয় না তার। তবে আশা না ছেড়ে মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে তিনি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিতে থাকেন। সে সময় জানতে পারেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে।  খোঁজ নিয়ে জানেন মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সেখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছাড় বা শিক্ষাবৃত্তি এবং সীমিত খরচে মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ।

রাজধানীর তেজগাঁওতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসের অ্যাডমিশন অ্যান্ড প্রমোশন বিভাগে এসে হাবিবুর রহমান শিক্ষাবৃত্তিগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন। অবশেষে হাবিবুর রহমান শাকিলাকে ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫০ শতাংশ বৃত্তি নিয়ে ভর্তি করিয়ে নিশ্চিন্ত হলেন।

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যত বৃত্তি

দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষাবৃত্তি দেয়া হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম নয় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ও। সেখানে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশেষ ছাড় বা শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের ফলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল মেধাবীদের উচ্চশিক্ষা অর্জনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে। স্নাতক পর্যায়ে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে এখানে টিউশন ফি ছাড় দেয়া হয়। এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের জিপিএ (চতুর্থ বিষয় ছাড়া) ৫ হলে ১০০ শতাংশ, ৪.৮০-৪.৯৯ এর মধ্যে হলে ৮০ শতাংশ, ৪.৫০-৪.৭৯ এর মধ্যে হলে ৪০ শতাংশ এবং ৪.০০-৪.৪৯ এর মধ্যে হলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে টিউশন ফি ছাড় দেয়া হয় স্নাতক পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে। সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোনো বিভাগ থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৯০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ৫০ শতাংশ, ৩.৮০-৩.৮৯ এর মধ্যে হলে ৪০ শতাংশ এবং ৩.৭০-৩.৭৯ এর মধ্যে হলে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়। যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৮০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ২৫ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত যে কোনো প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের সিজিপিএ ৩.৯০-৪.০০ এর মধ্যে হলে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ ছাড়ের আওতায় খেলোয়াড়, শিল্পী, বিতার্কিক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহনকারী এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য রয়েছে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা।

এ ছাড়া ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর জন্য ২৫ শতাংশ, উপজাতি বা নৃগোষ্ঠীর জন্য ১০ শতাংশ, কর্পোরেটদের জন্য ১৫ শতাংশ, বিসিএস ক্যাডার ও সামরিক ব্যক্তিবর্গের জন্য ৩০ শতাংশ এবং ছাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ টিউশন ফি ছাড়ের সুবিধা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

মেধাবী ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড়ের ব্যবস্থা। সামগ্রিকভাবে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জিপিএ ৩.৭৫-৩.৭৯ এর মধ্যে হলে ২০ শতাংশ, ৩.৮০-৩.৮৪ এর মধ্যে হলে ৩০ শতাংশ, ৩.৮৫-৩.৯০ এর মধ্যে হলে ৪০ শতাংশ এবং জিপিএ ৩.৯০ এর  উপরে হলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় চার বছরের স্নাতক ডিগ্রীর মাধ্যমে ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এক বছর থেকে দুই বছরের মধ্যে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছেন ভর্তি বিভাগের সহকারী পরিচালক দীপ্তি সরকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বিবিএ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি (পিসিবি সনদপ্রাপ্ত), আর্কিটেকচার (আইএবি সনদপ্রাপ্ত), বাংলা, ইংরেজি, এলএল.বি এবং অর্থনীতি বিভাগ।

স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে এমবিএ (রেগুলার), ইএমবিএ, এমএ ইন ইংলিশ, এমএ ইন বাংলা, এলএল.এম (ফাইনাল) এবং এমডিএস (মাস্টার্স অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ)। ভর্তি কার্যক্রম চলে বছরে তিনটি সেমিস্টারে-স্পিং (জানুয়ারি-এপ্রিল), সামার (মে-আগষ্ট), ফল (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)। সে অনুযায়ী এখন চলছে সামার সেমিস্টারে ভর্তি কার্যক্রম।

সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগের ঠিকানা : বাড়ি ৬৪/বি, রোড ১৮, বনানী, ঢাকা-১২১৩। ফোন : ৫৫০৩৪১৩৫, ৫৫০৩৪১২৫-২৮। স্থায়ী ক্যাম্পাস : ২৫১/এ এবং ২৫২, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা ১২০৮।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *