যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো জানা উচিত

দেশ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে অনেকেই স্বপ্ন দেখে দেশের বাইরে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি ডিগ্রি নেওয়ার। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনা এবং পরামর্শের অভাবে অনেক শিক্ষার্থীকেই হতাশায় ভুগতে হয়। যেসব শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স অথবা পিএইচডি করার কথা ভাবছেন, এই লেখা তাদের জন্য।

এ মাস থেকেই সাধারণত আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফল সেমিস্টিার শুরু হয়। এরই ধারাবাহিতকায় শুরু হচ্ছে ২০১৭’র ফল সেমিস্টার। সারা বিশ্বের হাজার হাজার শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছে তাদের উচ্চশিক্ষা যাত্রা। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চান্স পেয়ে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও শুরু করতে যাচ্ছেন তাদের স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা যাত্রা।

কেন যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স বা পিএইচডি করবেন?
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীরা মাস্টার্স বা পিএইচডি করতে আসেন অনেকগুলো কারণে–
১. মার্কিন ডিগ্রী বিশ্বের যেকোনো দেশের যেকোনো জায়গায় অধিক গ্রহণযোগ্য।
২. বর্তমান বিশ্বের সেরা সেরা বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। এককথায় বলা চলে, বর্তমান পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেই সবচেয়ে বেশি চর্চা করা হয়।
৩. যুক্তরাষ্ট্র আসলে অভিবাসীদের দেশ। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই যার মানুষ সেখানে নেই। বৈচিত্র উপভোগ করা কিংবা মানুষ হিসেবে আমি আসলে অন্যদের থেকে কতটুকু আলাদা সেটা বুঝার জন্য হলেও আমেরিকায় আসা উচিত।
৪।। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ লোকদের মূল্যায়ন এখানে সব সময়ই বেশি। কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় সেখানে শ্রমবাজার অনেক বড়।
৫. উন্নত জীবনযাত্রা ও বিভিন্ন গোত্রের মানুষের পারস্পারিক সহাবস্থান এখানে রয়েছে।

কখন থেকে সেমিস্টার শুরু হয়?
আমেরিকায় সাধারণত বছরে ২টা সেমিস্টারে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। ফল সেমিস্টার ও স্প্রিং সেমিস্টার। আগস্ট মাস থেকে ফল আর জানুয়ারি থেকে শুরু হয় স্প্রিং সেমিস্টার।
*ফল সেমিস্টারে আবেদনের সময়:
অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর (বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হয়, কখনো কখনো জানুয়ারি পর্যন্তও আবেদন করা যায়)

*স্প্রিং সেমিস্টারে আবেদনের সময়:
জুলাই থেকে অক্টোবর (বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হয়)।

আবেদন করতে যা যা লাগে:

• জিআরই স্কোর (বিবিএ ব্যাকগ্রাউন্ড যাদের তাদের অনেক ক্ষেত্রে জিআরই এর পরিবর্তে জিম্যাট (গ্রাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট এডমিশন টেস্ট) দিতে হয়। তবে ইদানিং অনেক বিশ্ববিদ্যালয় জিআরই ও গ্রহণ করে থাকে)।
• টোফেল (টেস্ট অব ইংলিশ এজ ফরেইন ল্যাংগুয়েজ) অথবা আইইএলটিএস (ইন্টারন্যাশনাল ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টেস্টিং সিস্টেম)) স্কোর (যেকোন একটি)।
• আন্ডারগ্রাজুয়ের ট্রানস্ক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট (বিএসসি, বিবিএ, বিএ, বিবিএস, এলএলবি এবং অন্যান্য)
• রিকমেন্ডেশন লেটার (বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অথবা অফিস কর্মকর্তা থেকে)।
• স্টেটমেন্ট অব পারপোজ (কেন আবেদন করছো, এই ভার্সিটিতে কেন, ওই প্রোগ্রামেই কেন, আগে কি কি কাজ কাজ করেছ – এইসব বর্ণনা করে ১-২ পৃষ্ঠার একটা মোটিভেশন লেটার)
• রিসার্চ পেপার (জার্নাল / কনফারেন্স) (যদি থাকে)।
• চাকরির অভিজ্ঞতার সনদপত্র (যদি থাকে)।

সিজিপিএ’র গুরুত্ব:

সিজিপিএ যত বেশি রাখা যায় তত ভালো। তবে সিজিপিএই সব কথা নয়। সায়েন্স অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাকগ্রাউন্ডদের ৩.৫০ বা তার বেশি হলে খুবই ভালো। তবে তার চেয়ে কম হলেও খুব একটা সমস্যা নেই। এমন অনেক অনেক রেকর্ড আছে যে, ৩.১০ পেয়েও চান্স পেয়েছে। ভর্তি প্রক্রিয়ায় সবেচেয়ে বেশি গুরুত্ব ২টা বিষয়।
১ রিসার্চ পেপার
২. স্টেটমেট অব পারপোজ

আর মাস্টার্স বা পিএইচডির ভর্তির বেশির ভাগই নির্ভর করে প্রফেসরের উপর। যদি আগে থেকেই যেখানে আবেদন করা হচ্ছে সেখানকার প্রফেসরদের সাথে কথা বলে রাখা যায় তবে তা ভর্তিতে দারুণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শদান সহ অন্যান্য সহযোগিতায় কাজ করছে এক্সা এডুকেশন, ইনপয়েন্ট কনসালটেন্স (আইপিসি) এবং ওভারসিজ অ্যামবিশন সলিউশন লিঃ। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা যেকোনো সমস্যায় যোগাযোগ করতে পারবে এই পরামর্শদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
যোগাযোগ:
• এক্সা এডুকেশন:- ০১৭৩৩-৪৪২৬৪৪;
• ইনপয়েন্ট কনসালটেন্স (আইপিসি):- ০১৭১০-৩৯৩৫৩৭, ০১৯১৬-২৯০০৭৪;
• ওভারসিজ অ্যামবিশন সলিউশন লিঃ:- ০১৭৯১০২২২২২
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজেদের ফ্রি অ্যাসেসমেন্ট করাতে পারবে। ফ্রি অ্যাসেসমেন্টের জন্য এখানে ক্লিক করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *